অর্গানিক Backlinks ভালো নাকি পেইড ব্যাক লিংকস (পার্থক্য)?

প্রফেশনাল লাইফে অত্যাধিক ব্যস্ততার কারণে দীর্ঘ দিন যাবত ব্লগে আর্টিকেল শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হয়েছে। অনেক দিন থেকে ব্লগে কনটেন্ট শেয়ার না করার কারনে আমাদের ব্লগের ভিজিটর বিভিন্ন প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে যাচ্ছিলেন। আসলে কাজের ব্যস্ততার কারনে ব্লগে লিখার কোন সময় করতে পারছিলাম না। তাছাড়া বিভিন্ন টপিক নিয়ে আর্টিকেল শেয়ার করার জন্য অনেক অনুরোধও আমাদের ইনবক্সে জমা রয়েছে। সকলের চাহিদানুসারে প্রদত্ত আর্টিকেল বিষয়ে খুব শীঘ্রই আলাদা আলাদা পোষ্ট শেয়ার করার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ্।
অর্গানিক Backlinks ভালো নাকি পেইড ব্যাক লিংকস ভালো?

আজকের টপিকটি একটি বিতর্কীত বিষয়। কারণ এ বিষয়ে অনেক ওয়েব পন্ডিতগণের ভিন্ন ভিন্ন মতবাদ রয়েছে। আবার কোন কোন আইটি ব্যবসায়িগণ তাদের নিজস্ব স্বার্থ হাসিল করার জন্য তাদের পছন্দের ব্যাক লিংকটিকে গুরুত্ব সহকারে ঘুরিয়ে পেছিয়ে ক্লায়েন্ট এর কাছে উপস্থাপন করেন। তারা তাদের ক্লায়েন্টকে কিছু বিষয় হিডেন রেখে ব্যাক লিংকসের অন্যান্য গুরুত্বগুলি বুঝিয়ে থাকেন। আমি অনেক দিন আগে একজন ওয়েবমাষ্টার তার ক্লায়েন্টকে এ ভাবে বুঝাতে দেখেছি যে, ব্যাক লিংক আবার ফ্রি বা পেইড কি, যেটা নেবেন সেটাই সমান গুরুত্ব বহন করবে। তাছাড়া এসইও বিষয়ে আমার সাথে মাঝে মধ্যে দু-চার জন ক্লায়েন্ট এর যোগাযোগ হয়। তারা আমাকে এসইও করার পাশাপাশি ব্যাক লিংক তৈরি করে দেওয়ার জন্য বলেন। এ বিষয়ে আমি কাজ নেব না মর্মে সরাসরি জানিয়ে দেই। কারণ আমি আমার ক্লায়েন্টদের কখন ঠকাতে চাই না।

উপরের প্যারাটি পড়ে আপনাদের মনে হয়ত প্রশ্ন জাগতে পারে যে, আমি বার বার বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলে যাচ্ছি কিন্তু মূল বিষয়ে কোন কিছু লিখছি না কেন? আসলে মূল বিষয়ে যাওয়ার আগে কিছু সমস্যা নিয়ে কথা বল্লাম। কারণ মূল বিষয়ে সরাসরি বল্লে বিষয়টি আপনাদের কাছে বোধগম্য বা সহজবোধ্য হবে না।

যারা ব্যাক লিংক বিষয়ে পরিষ্কারভাবে জানেন না তারা আমাদের ব্লগের Backlink সম্পর্কিত পূর্বের পোস্টগুলি পড়ে নেবেন। তাছাড়া No Follow ও Do Follow ব্যাক লিংক কি এবং কোথায়, কিভাবে ব্যবহার করবেন সে বিষয়ে আমাদের ব্লগে ইতোপূর্বে বিস্তারিত শেয়ার করা হয়েছে। কাজেই কেউ যদি ব্যাক লিংক সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান না রাখেন তাহলে আমাদের ব্লগের পোস্টগুলি পড়ে নেবেন। তবেই এ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিয়ে আপনার ব্লগের জন্য কি ধরনের ব্যাক লিংক প্রয়োজন সে বিষেয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছতে পারবেন।

 ব্যাক লিংক কেন প্রয়োজন?

সাধারণত সর্বপ্রথম যখন একটি ওয়েবসাইট/ব্লগ লাউঞ্চ করা হয় তখন সার্চ ইঞ্জিন সহ ভিজিটর কেউই সদ্য চালু হওয়ায় ব্লগ সম্পর্কে জানে না বা চেনে না। এ ক্ষেত্রে সার্চ ইঞ্জিন ও ভিউয়ারদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ব্লগের গুরুত্ব বৃদ্ধির জন্য ব্যাক লিংকস এর প্রয়োজন হয়। আপনি যে বিষয় নিয়ে ব্লগিং করছেন সে বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত অন্য ব্লগের পোষ্টের অভ্যন্তরে যদি আপনার ব্লগের লিংক তৈরি করতে পারেন তাহলে ঐ পোস্ট হতে আপনার পোস্টটি লিংক জুস ভয়ে আনার পাশাপাশি কিছু ট্রাফিক এনে দিয়ে ভিজিটরদের সাথে আপনার ব্লগটির পরিচয় ঘটিয়ে দিতে সক্ষম হবে। অন্তত সাধারণ এই দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ করলেও দেখা যায় যে, পাঠক এবং সার্চ ইঞ্জিন উভয়ের কাছে ব্যাক লিংকস এর গুরুত্ব রয়েছে। তাছাড়া একটি ওয়েবসাইটের র‌্যাংকিং বৃদ্ধিতেও ব্যাক লিংকস গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। কাজেই আপনি নিজেই বুঝতে পারছেন যে, একটি ওয়েবসাইটের জন্য ব্যাক লিংকস কেন প্রয়োজন।

 অর্গানিক ও পেইড ব্যাক লিংক কি?

সহজভাবে বলা যায় যে, দীর্ঘ দিন ব্লগিং করার পর যখন ব্লগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেতে থাকে তখন অটোমেটিকভাবে অন্যান্য ব্লগের সাথে যে লিংক তৈরি হয় সেটিই হচ্ছে অর্গানিক ব্যাক লিংক। পক্ষান্তরে টাকার বিনিময়ে যে ব্যাক লিংকগুলি বিভিন্ন থার্ড পার্টি ব্লগ কিংবা ওয়েবমাস্টারদের নিকট থেকে কেনা হয়ে থাকে সেগুলি হচ্ছে পেইড ব্যাক লিংক। সুতরা বুঝতেই পারছেন অর্গানিক ব্যাক লিংকসের জন্য টাকা প্রয়োজন হয় না, অন্যদিকে পেইড লিংকস টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।

 অর্গানিক নাকি পেইড ব্যাক লিংকস প্রয়োজন?

আমি আগেই বলেছি অর্গানিক বা অরিজিনাল ব্যাক লিংক ব্লগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সাথে সাথে অটোমেটিক বৃদ্ধি পেতে থাকে। তবে নতুন ব্লগ লাউঞ্চ করার পর আপনার ব্লগের বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত অন্য ব্লগে কমেন্ট এবং বিভিন্ন ব্লগে গ্যাস্ট ব্লগার হিসেবে জয়েনসহ ফোরামে অংশগ্রহনের মাধ্যমে সহজে ভালমানের ব্যাক লিংকস বৃদ্ধি করা যায়। এ বিষয়টি নতুন অবস্থায় একটি ব্লগের ব্যাক লিংকস তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। যেহেতু অর্গানিক ব্যাক লিংক নিজে অথবা সময়ের সাথে সাথে অন্যরা আপনার ব্লগের গুরুত্ব বুঝে তাদের ব্লগের সঙ্গে যুক্ত করবে সেহেতু এই ধরনের লিংকস আপনার ব্লগের বিষয়ে সাথে মিল রয়েছে এমন ব্লগের সাথেই যুক্ত হয়ে ব্যাক লিংক তৈরি করবে অর্থাৎ আপনার ব্লগের বিষয় এবং যে ব্লগ হতে ব্যাক লিংকস তৈরি হয়েছে সেই ব্লগের বিষয় একই বা পাশাপাশি হবে।

অন্যদিকে যারা বিভিন্ন ওয়েবমাস্টার বা আইটি কোম্পানির নিকট হতে চুক্তির মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে ব্যাক লিংকস তৈরি করে থাকেন, তারা আপনার ব্লগের বিষয়ে সাথে মিল রয়েছে এমন ব্লগ হতে ব্যাক লিংক তৈরি করে দেন না। এ ক্ষেত্রে তাদের নেটওয়ার্ক এর আওতায় যে সমস্ত ওয়েবসাইট এবং ব্লগ রয়েছে সেই সমস্ত ব্লগ হতে খুব সহজে এবং অল্প সময়ে ব্যাক লিংক তৈরি করে দেন। এ ক্ষেত্রে আপনার ব্লগের বিষয় ও লিংকস তৈরি হওয়া ব্লগের বিষয়ের মিল না থাকায় ব্যাক লিংকসগুলি ভিজিটর ও সার্চ ইঞ্জিন কারো নিকট হতে তেমন কোন গুরুত্ব বয়ে আনতে পারে না। আমি উদাহরনের মাধ্যমে বিষয়টি আপনাদেরকে আরো পরিষ্কার করছি। তবে উদাহরন দেওয়ার আগে আরো দুটি কথা শেয়ার করব। তারপর উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব।

এই পোস্টটি লিখার সূত্রপাত ঘটে আমার এক ক্লায়েন্টের মাধ্যমে। গতকাল একজন ওয়েব ডিজাইনার তার ওয়েবসাইটের এসইও করার জন্য আমার কাছে আসেন। প্রথমেই তার ওয়েবসাইটটি আমাকে দেখানোর জন্য বলি। তার সাইটটি ওয়ার্ডপ্রেসে হোস্টিং করা এবং ডোমেন ও হোস্টিং GoDaddy থেকে নেওয়া। তার ওয়েবসাইটের বিষয় ছিল ওয়েব ডিজাইনের স্কিল টেস্টিংয়ের উপর। প্রথমে দেখে আমি মনেকরেছিলান এটা খুব নরমাল একটি বিষয়। তবে পরবর্তীতে সবকিছু দেখার পর বুঝতে পারলাম যে, ভালমানের অনেক কিছু রয়েছে। বিস্তারিত দেখে এবং আলোচনা করে বুঝতে পারলাম উনি মোটামোটি ভালমানের একজন ওয়েব ডিজাইনার। তিনি চেয়েছিলেন তার ওয়েবসাইটের পরিপূর্ণ এসইও সংক্রান্ত কাজ করাতে। আমি তার সাথে রাজি হয়েছিলাম এবং মোটামোটি সবকিছু ফাইনাল হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সমস্যা হল তাকে পর্যাপ্ত পরিমানে ব্যাক লিংকস তৈরি করে দিতে হবে। তখন আমি তাকে বল্লাম ব্যাক লিংক তৈরি করতে হয় না। এটা সময়ের সাথে সাথে অটোমেটিক হয়ে যায়। এ বিষয়টি আপনি নিজে নিজেই করতে পারেন। কিভাবে করতে হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত বলে দিয়েছিলাম। কিন্তু সে আমার মতের সাথে কোনভাবে একমত হতে চায়নি। অবশেষে তার সাথে আমার এসইও সংক্রান্ত ডিল বাতীল করতে বাধ্য হই।

অর্গানিক Backlinks ভালো নাকি পেইড ব্যাক লিংকস (পার্থক্য)?
আমাদের ব্লগের ব্যাক লিংকস

উদাহরণঃ ধরুন আপনি এ্যাপেক্স শো কোম্পানির একজন নিয়মিত ব্যবসায়ি। আপনার কোম্পানির নিয়মিত পন্য হচ্ছে বিভিন্ন নিত্য নুতন বাহারি ডিজাইনের শো। আপনি বিভিন্ন সময়ে ক্রেতাদের চাহিদানুসারে সময় উপযোগী নুতন নুতন শো ডিজাইন করে আপনার দোকানে রাখার চেষ্টা করবেন। এ ক্ষেত্রে আপনি কখনো চাইবেন না যে, আপনার শো মার্কেটের ভীতরে একটি চায়ের দোকান বসিয়ে দিতে। কারণ সর্বস্তরের লোকজন জানেন এ্যাপেক্স হচ্ছে একটি ভালমানের শো কোম্পানি। এখানে চা খেতে যাওয়ার কোন প্রশ্নই আসে না। তারপরও ভূলক্রমে কোন এ্যাপেক্স মার্কেটে চায়ের দোকান বসালে সেখানে চাঁ খেতে যাওয়া কাস্টমারের সংখ্যা কখনো ৫% এর বেশী হবে না।

ঠিক একই ভাবে আপনার ব্লগের ওয়েব ডিজাইন বিষয়ে লিখা কোন একটি পোস্ট আরেকজন কবিতা বা গল্প নিয়ে কাজ করা ব্লগের সাথে যুক্ত হয়ে ব্যাক লিংক তৈরি করলেও ঐ ব্লগের পাঠক আপনার ওয়েব ডিজাইন সংক্রান্ত ব্লগ পোস্টটি পড়তে আসবে না। কারণ একজন কবিতা পাঠকের কাছে ওয়েব ডিজাইন বিষয়টা মূল্যহীন। তিনি স্বভাবত ওয়েব ডিজাইন বিষয়টি পড়তে চাইবেন না বা তিনি এই বিষয়টা বুঝবেনও না। এ ক্ষেত্রে তার কাছে বিষয়টি বিরক্তকর মনে হবে। অন্যদিকে সার্চ ইঞ্জিন ক্রলার যখন ঐ ব্লগে প্রাপ্ত আপনার ব্লগের লিংকটি পেয়ে লিংক ত্রো করে আপনার ব্লগে এসে দেখতে পাবে যে, আপনার ব্লগের আর্টিকেল এবং সেই ব্লগের আর্টিকেলের কোন মিল নেই তখন সার্চ ইঞ্জিন এটিকে স্প্যাম হিসেবে মার্ক করে নিবে। এ ক্ষেত্রে ঐ ব্লগ হতে প্রাপ্ত ব্যাক লিংকটি হিতের বিপরীত কাজ করবে।

উপরের আলোচনা ও বিশ্লেষণ থেকে আমি আপনাদের এই বিষয়টি বুঝাতে চেয়েছি যে, আপনি যে ভাবে ব্যাক লিংক তৈরি করুন না কেন সেটা যেন হয় আপনার ব্লগের কনটেন্টের সাথে সম্পৃক্ত। কোনক্রমেই যাতে চায়ের দোকানে আলু, পঠল ও মরিচ এর ব্যবসা শুরু করার মত না হয়। আপনি যদি ওয়েব ডিজাইন নিয়ে কাজ করেন তবে ওয়েব ডিজাইন নিয়ে কাজ করছে এমন অন্যান্য ওয়েবসাইট হতে ব্যাক লিংক তৈরি করার চেষ্টা করবেন। এন্ড্রয়েড মোবাইল নিয়ে কাজ করলে এন্ড্রয়েড সংক্রান্ত ওয়েবসাইট হতে লিংক তৈরি করার চেষ্টা করবেন। ঠিক একই ভাবে আপনি যখন ইন্টারন্যাল ব্যাক লিংক তৈরি করবেন তখন খেয়াল রাখবেন পোষ্টটির সাথে পরিপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এমন পোষ্ট লিংক হিসেবে যুক্ত করে দেবেন। অযথাই লিংক তৈরি করে পোষ্টটির মূল্য সার্চ ইঞ্জিনের কাছে কমিয়ে দেবেন না।

সিদ্ধান্তঃ উপরোক্ত আলোচনা থেকে আপনি নিজেই বুঝতে পারছেন যে, প্রকৃতপক্ষে একজন ব্লগার এর জন্য কোন ধরনের ব্যাক লিংকস প্রয়োজন। শুধু শুধু টাকা নষ্ট করে অল্প দিনে বেশী করে ব্যাক লিংকস তৈরি করে কোন লাভ নেই। মনে রাখবেন অল্প দিনে সাফল্য হাতে পেতে চাইলে মাঝ পথে ছিটকে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। ব্যাংক লিংকস তৈরির ক্ষেত্রে আমার পরামর্শ হচ্ছে আপনি প্রথমে ভালমানের আর্টিকেল এর সমন্বয়ে ব্লগিং চালিয়ে যান। তারপর কিছু সংখ্যক আর্টিকেল শেয়ার করার পর সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন শুরু করুন। সবশেষে আপনার ব্লগের সাথে সম্পৃক্ত এমন ভালমানের ব্লগ/ওয়েবসাইটে গ্যাস্ট ব্লগিং করুন এবং বিভিন্ন ফোরামে জয়েন করে প্রশ্নের উত্তর প্রদানের মাধ্যমে আপনার ব্লগের লিংক শেয়ার করুন। তাহলে সার্চ ইঞ্জিন নিকট হতে যেমন আপনার ব্লগ গুরুত্ব পাবে তেমনি পাঠকগণও আপনার ব্লগ হতে সমাধাণ পেয়ে নিয়মিত ব্লগ ভিজিট করবে।

Leave a Comment